রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

কাবিননামা ছাড়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলে বিয়ে বৈধ

আপিল বিভাগের রায় কাবিননামা ছাড়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলে বৈধ বিয়ের অস্থিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে।
মমতাজ বেগম বনাম আনোয়ার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের রায়ে বিচারপতি এস কে সিনহা মন্তব্য করেছেন, মুসলিম নর ও নারী যদি স্বামী ও স্ত্রীর পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেন এবং তাঁদের মধ্যে যদি রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা না-ও হয়ে থাকে, তাহলেও এখানে বৈধ বিয়ের অস্থিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে।
তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী বৈধ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলেও গন্য হতে পারে। মামলার রায়টি আসে ৩১ জুলাই ২০১১। বিচারপতি এস কে সিনহার রায়ে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা সম্মতি দিয়েছেন।
মামলাটির ঘটনায় জানা যায়, মমতাজ বেগম ও আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। একপর্যায়ে লোভী আনোয়ার হোসেন মমতাজ বেগমের কাছ থেকে যৌতুক দাবি করতে থাকেন এবং যৌতুক না দেওয়ার কারণে মমতাজ বেগমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। মমতাজ বেগম তাঁর ভরণপোষণ এবং দেনমোহর চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা ঠুকে দেন। এই মামলায় আনোয়ার হোসেন জবাব দাখিল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মামলার জবাবে আনোয়ার হোসেন মমতাজ বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়েকে অস্বীকার করেন।
মমতাজ বেগম দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁরা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই একত্রে বসবাস করছেন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। মামলার সাক্ষী-প্রমাণ শেষে পারিবারিক আদালত আদেশ দেন, তাঁদের মধ্যে বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। আনোয়ার হোসেন ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করেন পারিবারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে। হাইকোর্ট বিভাগের একটি একক বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের মামলাটি খারিজ করে দেন ১৯৯৯ সালে। হাইকোর্ট বিভাগ তাঁর রায়ে বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকার কাবিননামা সম্পন্ন হয়নি যা বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং মমতাজ বেগম তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা মোহামেডান আইনের ২৫২ প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করে একত্রে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেননি এবং এই একত্রে থাকা কোনো বিয়ের বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়ে না।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে মমতাজ বেগম লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) দায়ের করেন এবং আপিল মঞ্জুর হয় তিনটি বিষয়কে বিবেচনা করে:
১. মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি না হলে এটি কি বাতিল, অবৈধ বা অস্তিত্বহীন কি না।
২. তিন বছর ধরে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা এবং বসবাসের শর্ত বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে কি না।
৩. হাইকোর্ট রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করে নিু আদালতের আদেশ এবং পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বৈধ বিয়ের অস্তিত্বের বিষয়ে বিবেচনা করেছেন কি না।
আপিল বিভাগে মমতাজ বেগমের পক্ষে আপিলটি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রাবেয়া ভূঁইয়া ২০০৩ সালে (সিভিল আপিল নম্বর-১৩৯/২০০৩)। তিনি আপিলে দাবি করেন, কাবিননামার অনুপস্থিতিতে বিয়ের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যাবে নাÑহাইকোর্ট বিভাগের এ বিবেচনা যুক্তিসংগত নয় এবং তা আইনের সঠিক মর্ম নয়।
আপিল বিভাগ রায়ে বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তিন বছর বসবাসের বিষয়টিকে প্রাধান্য না দিয়ে শুধু রেজিস্টার্ড কাবিননামা নেই এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগ যদিও বিশ্বাস করেছেন তাঁরা লিভ টুগেদার করেছেন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কিন্তু এমন বসবাসকে অনৈতিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হাইকোর্ট বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে লিভ টুগেদারের মতো অনৈতিক বিদেশি সংস্কৃতি আমাদের সমাজে ঢুকে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে আমাদের সমাজকে কলুষিত করছে, সামাজিক মূল্যবোধকে নষ্ট করছে এবং বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছে।’
বিচারপতি সিনহা মন্তব্য করেন, হাইকোর্ট বিভাগ পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য এবং মামলার ঘটনায় আইনের আদর্শের দিকটি বিবেচনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি তাঁর রায়ে বলেন, ‘মুসলিম আইন অনুযায়ী আমাদের বিয়ের ধারণা সম্পর্কে বিবেচনা করতে হবে। মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে হচ্ছে একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং এতে কোনো অনুষ্ঠান বা বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতার দরকার নাই।’
আরেকটি প্যারায় উল্লেখ করেছেন, ‘মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং এটি কোনো প্রথা ন। এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই। নর-নারীর মধ্যে বৈধ যৌন সম্পর্ক এবং সন্তান জন্মদানের জন্য একটি স্থায়ী চুক্তি হচ্ছে বিয়ে, যারা বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মুসলিম বিয়ে সম্পন্ন হতে হলে বিয়ের চুক্তি লিখিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরো বিয়ের প্রক্রিয়াটির বৈধতা এবং কার্যকরতা নির্ভর করে বিয়ের প্রস্তাব এবং প্রস্তাব গ্রহণ এবং উপযুক্ত সাক্ষীদের সামনে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে।’
আপিল বিভাগের এ রায়ে তায়েবজি, ডি এফ মোল্লা, সৈয়দ আমীর আলীর বিভিন্ন বক্তব্য ও বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছেন। আপিল বিভাগের রায়ে সৈয়দ আমীর আলীর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়, ‘মোহামেডান আইনে কোনো চুক্তির কার্যকরতার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো নেই যে বিষয়টি লিখিত হতে হবে কি না নাকি সাক্ষীদের উপস্থিতি এর বৈধতার জন্য প্রয়োজন কি না। যদিও সুন্নিদের মধ্যে বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষীদের উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে। যদি সাক্ষীদের উপস্থিতির অভাবে কোনো বৈধ বিয়ে প্রমাণ করা দুঃসাধ্য হয়ে যায় তাহলে বিয়ে সংঘটনের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে এটি বৈধ বিয়ে বলে গণ্য হবে।’
রায়ে উল্লেখ করা হয়, সাক্ষ্য আইনের ৫০ ধারায় বলা হয়েছে, যখন এক ব্যক্তির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির সম্পর্কের ব্যাপারে আদালতকে অভিমত নিতে হয় তখন পরিবারের সদস্য হিসেবে অথবা অন্যভাবে এই ব্যাপারে যা জ্ঞানলাভের সুযোগ আছে, উক্ত সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কে তার আচরণের মাধ্যমে যে অভিমত ব্যক্ত হয় তা প্রাসঙ্গিক বিষয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রশ্ন হচ্ছে, ক ও খ পরস্পর বিবাহিত কি না। তাদের বন্ধুবান্ধব সাধারণত তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অভ্যর্থনা করে এবং তাদের সঙ্গে তদ্রƒপ ব্যবহার করেÑএটা প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
রায়ে বলা হয়, যখন কোনো নারী অনেক বছর ধরে কোনো নরের এবং সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করে এবং সন্তানের জš§দাতা হিসেবে লোকটি স্বীকৃতি দেয় এবং আÍীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা তাদের সঙ্গে তেমনভাবে আচরণ করে, তাহলে বিয়ের বৈধতার বিষয়ে অনুমান করা যায়। এ বিষয়ে নর-নারীর মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তাদের আÍীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে পারেন আদালত।
এটা স্বীকৃত যে বিয়েটা আইনে মনোনীত একজন কাজির মাধ্যমে পড়ানো হয়। আরও দুইজন মনোনীত ব্যক্তি থাকেন যাঁরা পক্ষদ্বয় দ্বারা মনোনীত হন এবং শর্তগুলো চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বলবৎ করা হয়, যাকে বলা হয় কাবিননামা।
সাক্ষী ছাড়া একটি বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বৈধতা নেই। কিন্তু যখন এমন কোনো স্থানে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয় যেখানে এর কার্যকরতা বলবৎ করা যায় না, শুধু এ কারণে বিয়েটি অবৈধ হয়ে যাবে না। যেখানে সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব কিন্তু সাক্ষী রাখা হয়নি সে ক্ষেত্রে বিয়েটি অবৈধ হবে। একবার বিয়ে হলে এবং উভয় যদি একত্রে বসবাস করতে থাকে তাহলে চুক্তিগত ত্র“টিগুলো অকার্যকর হয়ে যায় এবং বিয়েটি আইনগত বৈধতা পায়।
বিচারপতি সিনহা মন্তব্য করেন, অনেক জুরিস্ট ও বিজ্ঞ লোকের অভিন্ন মতামত আছে যে কোনো বিয়ের বৈধতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ না থাকলে সে ক্ষেত্রে আচরণ এবং প্রচারের সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বিয়েটি সম্পন্ন হওয়ার ধরনের প্রশ্ন বিয়েটির বৈধতার উপাদান হিসেবে গণ্য হতে পারে।
স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক অবসানের পর বিয়েটি সম্পন্ন হওয়ার অনুমান সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। সেই স্থানে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি থাকবে না এবং এ জায়গাটি পাবলিক রাস্তা, গোসলখানার মতো হবে না। যে স্থানে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো দীর্ঘদিন বসবাস করেছে যা কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই এখানে বিয়ের বৈধতা নিয়ে অনুমান করা যায়। আইনে বিয়ের চুক্তির জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের কথা বলা নেই। একটি বিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই হতে পারে এবং এমনকি প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই পরোক্ষ প্রমাণই যথেষ্ট হতে পারে।
আপিল বিভাগের রায় হচ্ছে, হাইকোর্ট বিভাগ যদি মোহামেডান আইনের ২৫৪ এবং ২৬৮ প্যারা বিশ্লেষণ করতেন তাহলে বিয়েটির বৈধতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত অন্য কিছু হতে পারত। তাই এ মামলার রায় প্রদানে আইনের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। নথিপত্রের সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ করে যে মমতাজ বেগম তথা আপিলকারী এবং আনোয়ার হোসেন তথা প্রতিবাদীর মধ্যে বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।

পালিয়ে বিয়ে করছেন ?

ভালোবাসার মানুষটিকে যেভাবেই হোক নিজের করে নিতে চাইছেন। প্রয়োজনে পালিয়ে যাবেন তাকে নিয়ে, সমাজ সংসার-পরিবার ছেড়ে। কিন্তু তা কি করে সম্ভব?সমাজ-পরিবার তো আপনাকে ছাড়বে না! আসবে বাঁধা-বিপত্তি। যে ধরনের বাঁধা মোকাবেলা করতে হবে আপনাকে-সাধারণত প্রেমের বিয়ের ক্ষত্রে অপহরণের মামলা হয়: মেয়েটিকে অপহরণের মামলা করা হতে পারে আপনার ও আপনার পরিবারের বিরুদ্ধে, আটকে রাখার অভিযোগ আসতে পারে। আপনার বিরুদ্ধে হতে পারে ধষর্ণের মামলাও। স্বেচ্ছায় বিয়ে করে যদি প্রেমিক স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে মেয়ের বয়স যদি ১৬ বছরের কম হয়, সে ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যেতে পারে। তবে ভিকটিমকে সাক্ষ্য দিতে হবে যে তার সাথে প্রতারণা করে এই সম্পর্ক স্থাপন  করা হয়েছে।বিবাহবন্ধন-বহির্ভূত ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো মেয়ের যদি যৌনকর্মে সম্মতি থাকে, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর জন্য পুরুষসঙ্গীর কোনো শাস্তিও হবে না। কিন্তু অপহরণের ব্যাপারে কোনো বয়সের কথা উল্লেখ নেই। দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারাতে উল্লেখ আছে, ১৬ বা তার অধিক বয়সের কোনো নারী যদি কারও সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে যায়, তবে তা অপহরণ হিসেবে গণ্য হবে না।এসব সমস্যা মেটার পর দেখা যাবে যাকে ভালোবেসে এত কিছু করলেন সেই আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছে, আপনাকে প্রতারক ও অপহরণকারী বলে নিজ বাবা-মায়ের মতে আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াচ্ছে!তবে আপনার ভালোবাসার মানুষটি যদি হয় প্রাপ্তবয়স্কা এবং আইন অনুযায়ী আপনাদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয় এবং একে অন্যের প্রতি যদি থাকুন সৎ ও বিশ্বস্থ তবে এ ধরনেরসমস্যা গুলো থেকে পার পেয়ে যাবেন।এটি আপনাকে পালিয়ে বিয়ে করতে অনুপ্রেরণা নয় বরং না করতে ও ভালোবাসাটাকে সকলের সম্মতি ও সাহসের সাথে নিজের করে নিতে বলছি।আইন সবার জন্য সমান, তাই জানুন, সচেতন হওন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার উপায়:

নিয়মকানুন মেনে গাড়ি চালানোর জন্য দরকার প্রশিক্ষণ ও কিছু দরকারি কাগজপত্র। ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে থাকলে চালক রাস্তার ট্রাফিক সংকেতগুলো সম্পর্কে জানেন ও মানেন বলে ধরে নেওয়া হয়। কারণ লাইসেন্স দেওয়ারআগে বিআরটিএ তিনস্তরের পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করে।একবার লাইসেন্স করলে তা দিয়ে সারাজীবন গাড়ি চালানো যায় না। নির্দিষ্ট সময় পর পর নবায়ন করতে হয়। চালকের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী মামলা করতে পারে।ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রথমেবিআরটিএ’র ওয়েবসাইটথেকে লার্নার বা শিক্ষানবিস ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে।বিআরটিএ অফিসেও বিনামূল্যে লার্নার ফর্ম দেওয়া হয়। এটি পূরণ করে লার্নার অর্থাৎ শিক্ষানবিস লাইসেন্সের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।খরচাপাতি:মোটরসাইকেল ও গাড়ির লাইসেন্স ফিএকই। তবে মোটরসাইকেলের কোনো পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হয় না।শিক্ষানবিস ফি:*.একটি যানের জন্য ৩৪৫ টাকা(১৫% ভ্যাটসহ)।*.দু’টি (গাড়ি ও মোটরসাইকেল) যানের জন্য ৫১৮ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।*.লার্নার নবায়ন ফি ৮৭ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।*.শিক্ষানবিস থেকে পূর্ণমেয়াদের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা দিতে হয়। এর জন্যও রয়েছে আলাদা ফি।*.অপেশাদার লাইসেন্স ফি : ২,৩০০ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।*.পেশাদার লাইসেন্স ফি : ১,৪৩৮ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া:প্রথমে লার্নার বা, শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে।আবেদনকারীর স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা বিআরটিএ’র যে সার্কেলের আওতাভূক্ত তাকে সেই সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। সার্কেল অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে একটি শিক্ষানবিস বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে, যা দিয়ে আবেদনকারী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেটের তত্ত্ববধানে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ঢাকা জেলা সার্কেলের পরীক্ষা দিতে হলে যেতে হবে  কেরানীগঞ্জেরইকুরিয়ায়।নির্ধারিত কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হয়। ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সংকেত সম্পর্কিত বিষয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর লিখতে হয়। ফিল্ড টেস্টে সামনে-পেছনে, ডানে-বাঁয়ে ও পরীক্ষকের নির্দেশনা মতো গাড়ি চালিয়ে দেখাতে হয়।এ তিনটি ধাপে পাশ করলে লাইসেন্স দেওয়া হয়।শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে:১. নির্ধারিত ফরমে আবেদন।২. রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।৩. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি।৪. নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ।৫. সদ্য তোলা ৩ কপি স্ট্যাম্প ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।তিনটি পরীক্ষায় পাশ করার পর নির্ধারিত ফর্মে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি দিয়ে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।নির্ধারিত দিনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ) দেওয়ার জন্য উপস্থিত হতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষে বিআরটিএ স্মার্ট কার্ড ইস্যু করে।স্মার্ট কার্ড পাওয়ার তারিখ এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়াহয়।পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করতে হলে আরও কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়।পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স:*.পেশাদার হালকা (মোটরযানের ওজন ২৫০০ কেজি’র নিচে) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২০ বছর হতে হবে।*.পেশাদার মধ্যম (মোটরযানের ওজন ২৫০০ থেকে ৬৫০০ কেজি) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর হতে হবে।*.পেশাদার ভারী (মোটরযানের ওজন ৬৫০০ কেজির বেশি) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৬ বছর হতে হবে।এছাড়া পেশাদার ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য প্রার্থীকে প্রথমে হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। এরন্যূনতম তিন বছর পর তিনি পেশাদার মিডিয়াম ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।আর মিডিয়াম ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার কমপক্ষে তিন বছর পর ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।লাইসেন্সের মেয়াদ:অপেশাদার হলে ১০ বছর, পেশাদার হলে ৫ বছর।ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন:লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হয়। বিআরটিএ-তে নির্ধারিত ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:১. নির্ধারিত ফরমে আবেদন।২. রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সাটিফিকেট।৩. ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি।৪. নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ।৫. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন।৬. সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট ও ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।প্রয়োজনে আবেদনের মাধ্যমে লাইসেন্স এক এলাকার লাইসেন্স অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা যায়।অপেশাদার হলে:প্রথমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএ’র নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্র ঠিকভাবে পাওয়া গেলে একইদিনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ) গ্রহণ করা হয়। স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস-এরমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।পেশাদার হলে:পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর গ্রাহকেরবায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে উপস্থিত হতে হয়।

আইনজীবী ! কী ?:

: L-Legal Expert : আইনবিষয়ে অভিজ্ঞ
;:: A-Analytical : ব্যাখাকারক,
:: W-Wisdom : জ্ঞানী
;:: Y-Youthful : তারুণ্যময় ;
:: E-Evergreen : চির যৌবনের, শিল্পি ;
:: R-Royalist : রাজকীয় ।উপরের শব্দ গুলোর আরেকটু বিশ্লেষণ করলে
::: আইন বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জ্ঞানেরঅধিকারী।
:: শুধু আইন জানবে না, আইনটি কোথায় ?কিভাবে আছে ? সেটাও সঠিক ভাবে জানবে।
:: সব বিষয়ের ও সর্বস্তরের একটা পরিস্কারধারণা রাখবে। আপটুডেট, অর্থাৎ আইনের নতুননতুন বিষয়ে খোঁজ খবর রাখবে।
:: আইনের সময়মতো, সঠিকমতো এবং সঠিকজায়গায় প্রয়োগের দক্ষতা থাকবে।:: যে জায়গায় যেভাবে ব্যাখা করা দরকারসেভাবে তা সুন্দর ভাবে করবে এবং উপস্থিতবুদ্ধির অধিকারী হবে।:
: হতে হবে তারুণ্যময় তথা যৌবনদীপ্ত ওমাধুর্য্যমন্ডিতবলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের অধিকারী।
:: আদালত মঞ্চ মনে করবে। সবোর্চ্চচেস্টা করবে দক্ষ অভিনয় শিল্পীর সুনিপুনউপস্থাপনার মত নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে।:: ব্যক্তিত্ববান, তথা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর একপ্রানবন্ত মানুষ।:
: এমনভাবে নিজেকে বিচারককেরসামনে তুলে ধরবেন যেন নির্দ্বিধায় মোহিতহয়ে তার উপর আস্তা রাখেন।
:: জীবন হবে রাজকীয় তথা রাজার মত, ভদ্র,সাহসী ও মার্জিতবোধ সম্পন্ন।সর্বক্ষেত্রে নিজেকে প্রকাশ করবে রাজকীয়ভাবে বিশেষ করে আদালত চত্বরে।সুতরাং বুঝতেই পারছেন আইনজীবী কী !?

কমিউনিটি পুলিশিং

কমিউনিটি পুলিশিং কি?
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট পিলের গণমুখী পুলিশিং এর মূলনীতি হতেই মূলতঃ কমিউনিটি পুলিশিং এর ধারণা আসে। কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন । আমাদের দেশে পুলিশী  কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কমিউনিটির সদস্যগণ, সমাজের বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় কমিউনিটি পুলিশিং মূলত একটি প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় অপরাধের কারণগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় । অপরাধের কারণগুলো দূর করা যেহেতু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয় তাই এই কাজে অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড অপরাধ প্রতিরোধ তথা অপরাধ যাতে ঘটতে না পারে সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ জনগণকে নিজেরাই যাতে নিজ নিজ এলাকার অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য জনগণকে আইনী পরামর্শ দেওয়া, অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা,  অপরাধকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করে।
বৈশিষ্ট্য
১। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা পুলিশ ও জনগনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
২। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পুলিশী ব্যবস্থা।
৩। পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ে উভয়ের নিকট গ্রহণীয় পুলিশী কার্যক্রমের একটি দর্শন হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং।
৪। এ ব্যবস্থায় জনগণ এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিক্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়।
৫। জনগণের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
৬। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়।
৭। জনগণ পুলিশী কার্যক্রম ও পুলিশের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে জানতে পারে।
৮। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং জনগনের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ হ্রাস পায় এবং জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়।
৯। পুলিশ জনগণকে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে তাদের অনেক সমস্যা তাদের দ্বারাই সমাধানের পথ বের করার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
১০। কমিউনিটির সম্পদ কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সুফল
১। পুলিশ ও জনগণের মধ্যের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন ও এলাকার সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২। জনগণের সহায়তায় পুলিশ নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা সমাধানের কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারে।
৩। জনগণকে পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের আলোকে পুলিশী সেবা নিশ্চিত করা যায়।
৪। পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং জনগণ পুলিশী কাজের প্রক্রিয়া এবং পুলিশের সীমাবদ্ধতা জানতে পারে।
৫। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়।
৬। পুলিশ ও জনগনের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পায়। জনগণ পুলিশকে আপন ভাবতে শিখে।
৭। জনগণের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ ভীতি হ্রাস পায় এবং পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনগণ উদ্ধুদ্ধ হয় ও সাহস পায়। মানুষের মধ্যে পুলিশকে এড়িয়ে চলার প্রবণতাও হ্রাস পায়।
৮। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। এ ম্লোগান বাস্তবে রুপ নেয়।
৯। এলাকার অপারাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে একটি গণফোরম তৈরী হওয়ায় অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অপরাধ সংঘটনের সাহস পায় না। সমাজে অপরাধ হ্রাস পায়।
১০। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়।
কমিউনিটি পুলিশিং এর সাংগঠনিক কাঠামো
কমিউনিটি পুলিশিং এর অঞ্চল ভিত্তিক সাংগঠনিক কমিটির দুটো কাঠামো থাকে: (১) উপদেষ্টা পরিষদ এবং (২) নির্বাহী কমিটি বা কার্যকরী পরিষদ
উপদেষ্টা পরিষদ
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন হয়। তবে যদি কার্যকরী কমিটি মনে করে এলাকার বিশেষ কোন ব্যক্তি কমিউনিটি পুলিশিং সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেক্ষেত্রে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করার সুযোগ আছে।
নির্বাহী কমিটি/কার্যকরী পরিষদ
নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ এর মধ্যে হয়ে থাকে। তবে এলাকার উদ্যোগী, আগ্রহী এবং খ্যাতি সম্পন্ন কোন বিশেষ ব্যক্তিকে অন্তর্ভূক্ত করতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ২৫ জন করা যায়।
আইনগত ভিত্তি
কোন অধ্যাদেশ বা আইনের মাধ্যমে এদেশে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়নি। তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২, ৪৩, ৪৪, ও ৪৫ ধারা অনুসারে কিছু ক্ষেত্রে জনসাধারণ পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করতে বাধ্য। জনপ্রতিনিধি যেমন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ পুলিশি কাজে সহায়তা চাইতে পারেন। পুলিশ রেগুলেশনের ৩২ প্রবিধিতে এর উল্লেখ আছে। ফৌজদারী কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশনের এই ধারা অনুসারে পুলিশী সহায়তা ও নেয়া যায়। কমিউনিটি পুলিশিং হলো পুলিশকে সহায়তা করার জনগণের একটি সংগঠিত শক্তি। কাজেই প্রচলিত আইনেই কমিউনিটি পুলিশিং – এর সমর্থন আছে।
তহবিল
সদস্যদের চাঁদা এবং  ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদানের মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালানো হয়। বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক আয়ের উৎস সৃষ্টি করেও অর্থ সংগ্রহ করা যায়। বিধান অনুসারে প্রতি অর্থ বছর শেষে কার্যনির্বাহী কমিটি ৩ সদস্য বিশিষ্ট অডিট টিম গঠন করে আডিটের ব্যবস্থা করে।

কখন ও কীভাবে জিডি করবেন?

যদি কেউ আপনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হুমকি দেয়, আপনার মূল্যবান কিছু (যেমন পরিচয়পত্র) হারিয়ে যায় বা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয় কিংবা বাড়ির কাজের মেয়ে বা ছেলে না বলে চলে যায় সে ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনি আপনার নিকটবর্তী থানায় জিডি করবেন। কীভাবে জিডি করবেন, লিখেছেন এম ডি মনিরগবেষণা কর্মকর্তা, বিলিয়া
জিডির পূর্ণরূপজেনারেল ডায়েরি, যাকে বাংলায় সাধারণ ডায়েরি বলা হয়। এ ডায়েরি হলো কোনো অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটনের আশঙ্কাজনিত বিবরণ। এর জন্য থানায় গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ঘটনাটি মৌখিক বা লিখিতভাবে জানাতে পারেন। জিডি করার জন্য থানায় কোনো টাকা দিতে হয় না। এর জন্য কোনো ফি-ও ধার্য নেই। ঘটনা যেখানে সংঘটিত হয়েছে তার নিকটবর্তী থানায় গেলেই দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা জিডি লিপিবদ্ধ করবেন। পুলিশের সাহায্য নিয়েও জিডির জন্য দরখাস্ত লিখতে পারেন। জেনারেল ডায়েরি একটি মূল্যবান রেজিস্ট্রার। প্রত্যেক থানা বা ফাঁড়িতে জেনারেল ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। সাধারণত যেসব বিষয়ে জিডি করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে ইভ টিজিং,হারানো দলিল, নতুন/পুরান ভাড়াটিয়া সম্পর্কিত তথ্য, নতুন/পুরান নৈশপ্রহরী, দারোয়ান, গৃহপরিচারিকা, কেয়ারটেকার এবং পলায়নসংক্রান্ত বিষয় (যেমন ছেলে মেয়েকে বা মেয়ে ছেলেকে নিয়ে পালালে বা কাজের মানুষ পালালে)। তবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, মারামারি, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনায় মামলা হয়,জিডি হয় না। ব্যক্তিগতভাবেথানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে তাৎক্ষণিকভাবেব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।কোথায় জিডি করবেন?জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত। অর্থাৎ যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা আছে সে এলাকার থানাতেই জিডি করতে হবে। আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)বরাবর। নিচে থাকবে থানার নাম। বিষয় হিসেবে উল্লেখ করতে হবে যে ব্যাপারে জিডি করতে চান তার নাম (যেমন হারানোর ব্যাপারে লিখতে পারেন : হারানো সংবাদ সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন)। বিবরণ অংশে আপনাকে বিস্তারিত লিখতে হবে। অবশ্যই আপনাকে আশঙ্কার কারণ, যার জন্য আশঙ্কা করা হচ্ছে বা যে হুমকি দিচ্ছে তার নাম, ঠিকানা, হুমকির স্থান, তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কিছু হারিয়ে গেলে তার বিস্তারিত বিবরণ এবং পারলে তার কোনো নমুনা, যেমন ছবি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবেন। সব শেষে নিচে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার লিখে দেবেন। আবেদনটি লেখা সম্পন্ন হলে এর দুটি ফটোকপি করবেন। যদি কোনো বিষয়ে এখনই কোনো মামলা না করতে চান, তাহলে জিডিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দিতে হবে যে এ বিষয়ে আপাতত কোনো মামলা করবেন না। তবে মনে রাখবেন, পুলিশ যদি মনে করে যে কোনো মারাত্মক অপরাধ ঘটেছে, তাহলে জিডি থেকেও মামলা হতে পারে। জিডি করতে যে কোনো পরামর্শের জন্য সার্ভিস ডেলিভারি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনি যদি লিখতে না পারেন, তবে তাকে লিখে দিতে অনুরোধ করুন এবং এ জন্য থানায় জিডি করা হলে তা যদি কোনো অপরাধ আমলে নেয়ার জন্য হয়, তাহলে থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবেন। আর যদি কোনো অপরাধ অধর্তব্য প্রকৃতির হয়, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫(২) ধারা অনুসারে এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।জিডির গুরুত্বআইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাহায্য পাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ জিডি। কোনো অপরাধ সংঘটনের বিরুদ্ধে আইন সহায়তাকারী সংস্থার সাহায্য পাওয়ার জন্য এটি প্রথম পদক্ষেপ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। জিডি করতে দেরি হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ জোরালো হবে। অন্যদিকে জিডি সময়মতো করা হলে অভিযোগ শক্তিশালী হবে।অনলাইনে জিডি করার নিয়মঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাসিন্দারা ঘরে বসে অনলাইনেই নির্ধারিত ফরম পূরণ করে দলিল, সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র ইত্যাদি হারানো, চুরি, ছিনতাই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে জিডি এন্ট্রি সম্পন্ন করতে পারেন। প্রথমেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইট িি.িফসঢ়.মড়া.নফ ঠিকানায় প্রবেশের পর প্রধান পৃষ্ঠার ব্যানারের নিচেই দেখতে পাবেন 'সিটিজেন হেল্প রিকোয়েস্ট' নামের একটি ট্যাব। এ ট্যাবে ক্লিক করলে চলে আসবে আলাদা একটি পাতা। পাতার শুরুতেই অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি নিয়ে কিছু বর্ণনা দেয়া হয়েছে। নিচের অংশে রয়েছে তথ্য দেয়ার তালিকা। এ তালিকা থেকে আপনি যে ধরনের সাধারণ ডায়েরি করতে চান তা নির্বাচন করুন। নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী পাতায় আপনি পাবেন ডায়েরিকরার ফরম। ফরম পূরণের শুরুতে আপনি যে থানায় ডায়েরিটি করবেন তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর আপনার নাম, ঠিকানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলি পূরণ করে 'সাবমিট' বাটনটি ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট থানায় পেঁৗছে যাবে আপনার তথ্য। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনি একটি শনাক্তকরণ নাম্বার ও থানা থেকে কবে ডায়েরি-সংক্রান্ত সত্যায়িত কাগজটি সংগ্রহ করবেন তার সময় জানতে পারবেন। নাম্বারটি সংরক্ষণ করুন। কারণ থানা থেকে আপনার সাধারণ ডায়েরির সত্যায়িত কপিটি সংগ্রহ করতে নাম্বারটির প্রয়োজন পড়বে। শুরুতে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটনের সব থানার আওতায় বসবাসকারীরা এ সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া বখাটে, মাদকসেবী বা অপরাধীদের আড্ডাস্থল বা অন্য কোনো অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কিত অভিযোগ অনলাইনে করার সুযোগ রয়েছে। এভাবে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি-সংক্রান্ত যে কোনো পরামর্শ ও তথ্যের জন্য নধহমষধফবংয@ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ ঠিকানায় মেইলও পাঠাতে পারেন।জিডিতে কী কী উল্লেখ করতে হয়ঘটনা সংঘটিত হওয়া স্থানের নাম, সময়, সাক্ষী (যদি থাকে), সন্দেহকারী ব্যক্তির নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ঠিকানা, সন্দেহের কারণ ইত্যাদি উল্লেখ করতে হয়। আর শেষে থাকবে জিডিকারীর নাম, স্বাক্ষর, পিতার নাম, ঠিকানা ও তারিখ। যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলে থাকেন তাদের হল প্রভোস্টের স্বাক্ষর লাগতে পারে। যদি থানা কর্তৃপক্ষ আপনার জিডি এন্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আপনি সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করে আপনার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।জিডির পর করণীয়প্রত্যেক জিডি এন্ট্রির একটি নির্দিষ্ট নাম্বার ও তারিখ থাকে। লিখিতভাবে জিডি করার ক্ষেত্রে লিখিত দরখাস্তটির তিনটি অনুলিপি থানায় দাখিল করা হলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এগুলোর একটি অনুলিপি থানায় রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষণ করবেন। অন্য একটি অনুলিপি জিডি এন্ট্রির নাম্বার ও তারিখ প্রদান মোতাবেক সিলমোহরাঙ্কিত অবস্থায় দরখাস্তকারীকে ফেরত দেবেন। তৃতীয় অনুলিপিটি তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য রাখা হয়। এটা পরবর্তীতে লাগতে পারে। বিশেষ করে হারানো কোনো কিছু পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই লাগবে। আবার প্রত্যেক জিডি এন্ট্রির বিষয়কে গুরুত্ব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করার নিয়ম আছে। তবে যেসব জায়গায় অনেক বেশি পরিমাণে জিডি হয়ে থাকে সেসব স্থানে থানার পক্ষে সব জিডির বিষয় তদন্ত করা সম্ভব হয় না। তবুও থানায় কোনো জিডি করার পর যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয় সে ক্ষেত্রে জিডি এন্ট্রিটিঅপরাধীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। মনে রাখবেন, জিডি করা মানে কোনো মামলা করা নয়। মামলা হয় কোনো ফৌজদারি অপরাধ ঘটে গেলে। আর কোনো ঘটনা বা অপরাধ এখনো সংঘটিত হয়নি কিন্তু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বা কাউকে হুমকি দেয়ার কারণে শান্তি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সে ক্ষেত্রেই জিডি এন্ট্রি করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; যাতে অপরাধ সংঘটনকারী সতর্ক হয়ে যায়।

গ্রাম্য আদালত

ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় বিরোধ ও বিবাদের সহজ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে গ্রাম আদালত গঠন করা হয় এবং গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ প্রনয়ন করা হয়।গ্রাম আদালত আইনের ৪ ধারা অনুসারে কোন ব্যাক্তি উক্ত আইনের তফসিলভুক্ত দেওয়ানি অথবা ফৌজদারি বিষয়ে মমলা করতে চাইলে তাকে গ্রাম আদালতে মমলা করতে হবে। এরুপ আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান ৫ধারা অনুসারে গ্রাম আদালত গঠন করবেন। উক্ত আইনের ৫ধারায় বিধান করা হয়েছে যে,চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষ কর্তৃক মনোনীত ২জন করে মোট ৪জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হবে। তবে র্শত থাকে যে,প্রত্যক পক্ষ কতৃক মনোনীত ২জন সদস্যের মধ্যে ১জন সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদ্যস হতে হবে। গ্রাম আদলতের ৮ধারায় বলা হয়েছে যে, গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হলে কিংবা চার : এক(৪:১)সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অথবা ৪জন সদস্যের উপস্তিতিতে তিন:এক(৩:১) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হলে উক্ত সিদ্ধান্ত পক্ষগনের উপর বাধ্যকর হবে এবং কোন আপীল করা যাবে না। অন্যদিকে,সিদ্ধান্তটি তিন-দুই সংখ্যাগরিষ্ট ভোটে গৃহীত হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সিদ্ধান্তের ৩০দিনের মধ্যে ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটেরকাছে এবং দেওয়ানী অপরাধের ক্ষেত্রে সহকারী জজ আদালতে আপীলকরতে হবে।

দু’জনার ধর্ম দুটি হলেও বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করা যায়!

অনেক সময় ভিন্ন ধর্মের ছেলে-মেয়েরা তাদের ভালবাসাকে বাস্তবে রুপায়িত করার জন্য একে অপরকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সাবালক-সাবালিকা হিসেবে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ও আইনগত অধিকার তাদের আছে। সেই অধিকারের ভিত্তিতে দু’জনার ধর্ম দুটি হলেও বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করা যায়।
তখন রাত ৯টা। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া জনৈক সুমন পরিচয়ে আমার সাথে দেখা করার ভীষণ ইচ্ছা প্রকাশ করল। আমি আমার চেম্বারে আসার অনুমতি প্রদান করলাম। ১০ মিনিটের মাথায় এক ছেলে ও এক মেয়ে আচমকা চেম্বারে উপস্থিত। বিনয়ী ও মার্জিত পোশাকের অধিকারী ছেলেটি বলল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে আমার ঠিকানা পেয়েছে। জানতে চাইলাম আমি কি করতে পারি? আমার এ প্রশ্নে তারা দু’জনেই বেশ বিব্রত অবস্থার মধ্যে লাজুক ভঙ্গিতে বলল, আমরা দু’জনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কিন্তু আমরা পরস্পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই। প্রথমে তাদের নিরুৎসাহিত করি। পরিবার, সমাজ, ধর্ম বিশ্বাস সবকিছু নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, বিয়ে হতেই হবে। চেম্বারের আলমারী থেকে ম্যারেজ রেজিষ্টার বইটি বের করে করে খুঁজতে থাকি বিশেষ বিবাহ আইন অধ্যায়টি। পেয়ে যাই ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইন অংশটি। পুরোটা আয়ত্ত্ব করে ফেলি। ৫০ টাকা ষ্ট্যাম্পের উপর প্রস্তুত করি একটি হলফনামা। প্রস্তুতকৃত হলফনামায় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর ও ছবি সংযুক্তের পর ওই হলফনামা নোটারি পাবলিক কর্তৃক নোটরাইজড করি। হলফনামায় অবশ্যই ‘বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে’ শব্দগুচ্ছ লিখতে ভুল করলাম না। অতঃপর সরকার অনুমোদিত বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নির্ধারিত ফরম পূরণপূর্বক ৩ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দিলাম। উল্লেখ্য, বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্যতা নেই।
১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ অনুষ্ঠানের শর্তাবলীঃ
১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনের ২ ধারা মোতাবেক বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলী নিম্নরূপ (ক) বিয়ের সময় বিয়ের পক্ষগণের মধ্যে কারোই কোনও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না, (খ) গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে পুরুষ ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর এবং মহিলার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হতে হবে, (গ) পক্ষগণ রক্ত সম্পর্কে বা বৈবাহিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারবেন না, যাতে তাদের একজনের ওপর প্রযোজ্য আইন দ্বারা ওই বিবাহ অবৈধ হতে পারে।
যেভাবে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবেঃ
বিশেষ বিবাহ আইনের ১১ ধারা মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে রেজিস্ট্রার এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদানকারী তিনজন সাক্ষীর সম্মুখে। উল্লেখ্য, পক্ষগণকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে বলতে হবে ‘আমরা পরস্পর পরস্পরকে আইনসঙ্গত স্ত্রী অথবা স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম।’ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন না করলে বিয়েটি বাতিল হয়ে যাবে। ১১ ধারার বিধানাবলী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে [১৮ ডিএলআর (১৯৬৬) পাতা ৫০৯]।
তবে ২২ ধারার বিধান অনুসারে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্মাবলম্বী কোনও যৌথ পরিবারের কোনও সদস্যের এ আইন মোতাবেক বিয়ে হলে অনুরূপ পরিবার থেকে তার বন্ধন ছিন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে
কাজেই বাংলাদেশের কোনও মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন নন বা তাদের একজন যে কোনও এটি বা অন্য ধর্মে বিশ্বাসী তাদের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করতে হলে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন উপযুক্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে একজন আইনজীবী কর্তৃক হলফনামা সম্পাদনের পর ওই হলফনামা নোটারাইজড করে বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে সমুদয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতে ১৮৭২ সালে ব্রাহ্ম বিবাহ বিধি সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট নামে পাস হয়। ব্রাহ্ম সমাজের বৈশিষ্ট্য হলÑ সাবালক পাত্র-পাত্রীরা ব্রাহ্ম সমাজ মন্দিরে উপস্থিত হয়ে স্ব স্ব ধর্মে বহাল থেকে ব্রাহ্ম রীতিতে সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিবাহ করতে পারেন। মন্দিরের আচার্য বিবাহে পৌরহিত্য করলেও তা রেজিস্ট্রি করে থাকেন সিভিল ম্যারেজ রেজিস্ট্রার। ওই রেজিস্ট্রার বাংলাদেশ ব্রাহ্ম সমাজ ও আইনগতভাবে নিয়োগকৃত হতে হবে। ব্রাহ্ম বিবাহে সংস্কৃতের পরিবর্তে বাংলায় মন্ত্রোচারণ করতে হয়। বিবাহ শেষে উপস্থিত অতিথিরা প্রার্থনা সভায় অংশ নেন এবং ব্রাহ্ম সংগীত গেয়ে বর-কনের মঙ্গল কামনা করেন। এই প্রকার বিয়েতে যৌতুক প্রথা ও অতিথি আপ্যায়নের বাহুল্য নেই। জানা যায়, ১২৮১ বঙ্গাব্দের বৈশাখে ব্রাহ্ম সমাজভুক্ত মুসলিম যুবক জালালউদ্দিন মিয়া ব্রাহ্ম বিবাহরীতিতে প্যারী বিবিকে বিয়ে করে সর্বত্র হৈচৈ ফেলে দেন।
ঢাকার ঐতিহাসিক সদরঘাট ও কোতোয়ালি থানার উত্তরে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল সংলগ্ন পাটুয়াটুলী রোডের ২-৪ লয়াল স্ট্রিটে বালাদেশ ব্রাহ্ম সমাজ কার্যালয়ে দেশের একমাত্র সিভিল ম্যারেজ রেজিস্ট্রার রেভারেন্ড প্রাণেশ সমাদ্দার বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ জন্য ৫০০০ টাকা এবং ৩ জন সাক্ষীর প্রয়োজন।
দু’জনার ধর্ম দুটি হলেও সারাজীবন একত্রে জীবনসঙ্গী হিসেবে বসবাস করার জন্য বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করার বিকল্প নেই। বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করার সুযোগ আছে বলে স্বধর্মের উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীকে বিয়ে না করে ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসীদের বিয়ে করার মানসিকতাকে এড়িয়ে চলার উদাত্ত আহ্বান জানাই। বিশেষ বিবাহ আইনটি যুগোপযোগী করে সংশোধন করা দরকার। তাছাড়া ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং কার্যকর পদ্ধতিতে বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়গুলো আরও সহজ ও স্বচ্ছ হওয়া দরকার। আমাদের বিশ্বাস সরকার বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেন এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন

পিতা-মাতার ভরণপোষন বাধ্যতামূলক করে আইন ও এর বিশ্লেষণ

জাতীয় সংসদে পিতামাতার ভরণপোষন বাধ্যতামূলক করে বৃহস্পতিবার একটি বিল পাস হয়েছে। সন্তানরা পিতামাতার ভরণপোষনের ব্যবস্থা না করলে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের জেলের বিধান করে এ বিল পাস করা হয়েছে। পিতামাতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণপোষণ করতে হবে বলে আইনে বলা হয়েছে। কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী পিতামাতার ভরণপোষণ না করতে প্ররোচনা দিলে উক্ত স্ত্রী বা স্বামীও কিংবা অন্য সহায়তাকারী উপরোক্ত অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।
বিল অনুযায়ী পিতামাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে তাদের সন্তানের আয়ের ১০ শতাংশ নিয়মিতভাবে দিতে হবে। পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে ভরনপোষণ করতে হবে। ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিল ২০১৩’ নামে এটি পাসের প্রস্তাব করেন জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নূ। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। গত বুধবার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রী ছাড়া অন্য সদস্যরা আইন উত্থাপন করলে তা বেসরকারি বিল হিসেবে বিবেচিত হয়। সংসদে বেসরকারি বিল পাসের ঘটনা খুবই কম। এ নিয়ে নয়টি সংসদে মোট সাতটি বেসরকারি বিল পাস হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমান সংসদে তিনটি বেসরকারি বিল পাস হলো। চলতি সংসদে সর্বশেষ ২০১১ সালে সাবের হোসেন চৌধুরীর ‘দ্যা লেপারস (রিপিল) অ্যাক্ট, ২০১১’ সংসদে পাস হয়।
পিতা-মাতার ভরপোষণ সংক্রান্ত আইনে উল্লিখিত অপরাধ জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য করা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী পিতামাতার ভরণপোষণ না করতে প্ররোচনা দিলে উক্ত স্ত্রী বা স্বামীও কিংবা অন্য সহায়তাকারী উপরোক্ত অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।
বিল অনুযায়ী তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতাকে একইসঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্তান তার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস, বা অন্য কোথাও বা আলাদা আলাদভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না।
বিলে বলা হয়েছে প্রত্যেক সন্তান তার পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করবে। তারা পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানদের নিয়মিত সাক্ষাত করতে হবে। পিতামাতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণপোষণ করতে হবে।
এ আইন পাসের মধ্যে নিশ্চিত হলো জীবনের পড়ন্ত বেলায় কোনো প্রবীণকেই যেন ভুগতে না হয় একাকিত্বে, যেতে না হয় বৃদ্ধাশ্রমে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্থিক দৈন্য, একাকিত্বের কারণে বাংলাদেশের অনেক প্রবীণের জীবন কাটে কষ্ট-দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে। দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত প্রবীণদের পাশাপাশি অবস্থাপন্ন অনেক প্রবীণের জীবনেও রয়েছে নানা সমস্যা। দরিদ্র প্রবীণদের আর্থিক দৈন্যের কারণে তাদের জীবন কাটে অন্যের দ্বারে ক্ষুধা, রোগ, জরার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে অবস্থাপন্ন প্রবীণদের কেউ কেউ নিঃসন্তান, সন্তানদের দূরে বসবাস এবং নিকটাত্মীয় না থাকায় একাকিত্ব ছাড়াও তারা সম্মুখীন হন নানা সমস্যায়। এজন্য ধনী, গরিব নয়, প্রত্যেক প্রবীণকেই দিতে  হবে সুষম খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের এক তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের মতো প্রবীণ রয়েছে। তাদের মধ্যে শতকরা ৮৮ ভাগ প্রবীণেরই থাকতে হয় কোনো না কোনো সন্তান পরিবারের বাইরে। শতকরা ২০ জন হয় একাকী পরিবার কিংবা পরিজনহীন অথবা কেবল স্বামী-স্ত্রী মিলে বসবাস করেন।  নানা দুরবস্থার মধ্য দিয়ে কাটে তাদের জীবন । অথচ দেশ, রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম ও সভ্যতার প্রতিটি স্তরেই রয়েছে প্রবীণদের ভূমিকা। প্রবীণ শব্দে লুকিয়ে আছে শ্রদ্ধা, মমতা, ভালোবাসা, ত্যাগ, প্রেরণা, আস্থা ইত্যাদি। আজকে যারা প্রবীণ, কোনো না কোনো সময় তারা নবীন হয়ে দেশ ও জাতি রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। প্রবীণ সমাজের এত যে অবদান, ত্যাগ, তার কি যথাযথ মর্যাদা আমরা দিতে পারি না? আমাদের প্রবীণ সমাজ যখন বয়সের ভারে হয়ে পড়ে ন্যুব্জ, হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক চলাফেরার শক্তি, তখন কি আমরা তাদের দিকে সেই ভালোবাসা বা নির্ভরতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি না?  কখনও কি প্রবীণদের সম্মানের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করি ভালো আছেন তো? আমাদের নবীন সমাজ তাদের নিজেদের নিয়ে, নিজের পরিবার নিয়ে, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এত ব্যস্ত যে প্রবীণদের কথা মনেই থাকে না।
নিজের বাসভূমি, শেকড়, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রবীণদের সংখ্যা পৃথিবী জুড়ে বাড়ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নানা কারণে শিশুর জন্ম কমছে, তবে বাড়ছে বয়স্ক মানুষ। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীজুড়ে ৬০ বা বেশি বয়সের প্রবীণের সংখ্যা শিশুর সংখ্যা থেকে ছাড়িয়ে যাবে। পুরো পৃথিবীতে জনসংখ্যাগত এ পরিবর্তন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে প্রবীণের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ। ২০২৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় দুই কোটি পেরিয়ে যাবে।
বার্ধক্য প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী জীবনের শেষ অধ্যায়। একে অস্বীকার করা যায় না। তাই পৃথিবীজুড়ে বয়স্ক মানুষের চিকিৎসাসেবা, অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি নিচ্ছেও। কিন্তু এ দেশে পদক্ষেপ আটকে থাকে কাগজ-কলম আর সরকার পরিচালকদের ঠোঁট পর্যন্তই। কয়েক বছর আগে সরকার প্রবীণদের ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হিসেবে ঘোষণা করে। এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রবীণদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করার দাবি দীর্ঘদিনের। এ দাবি বাস্তবায়নে কোনো সরকারই উদ্যোগ নেয়নি। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার আজ অবধি বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ নীতিমালা ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি নীতিমালাটি নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য সব সরকারি দফতর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয় ওই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। তবে বাস্তবায়নের ঘরটা এখনো শূন্যেই আটকে আছে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এ পৃথিবী, সভ্যতা, সমাজ ও সংসার সাজাতে প্রবীণদের অবদানও অনেক। প্রবীণ মানেই আমাদের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানী। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ বলতে জীবিকা নির্বাহের জন্য খাওয়া, পরা ও থাকার সংস্থানকে বুঝায়। মাঝে মাঝে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করাকে ভরণপোষণ বলে না। শুধুমাত্র খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান হলেই ভরণপোষণ সংজ্ঞাটি সম্পূর্ণ নয়। শিক্ষার খরচ এবং শরীর ও মানসিক পুষ্টির জন্য যাবতীয় বিষয়ও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভূক্ত হবে। কাজেই সংসদে পাসকৃত আইনটি যেনো কাগজে-কলমে না থেকে বাস্তবে রুপ নেয়-এই শুভ কামনায়।

কিশোর অপরাধ,অপরাধের প্রবনতা এবং আমাদের করণীয়

Act এর ধারার ব্যাত্যয় ঘতায় তবে ঐ আদালতের রায় বাতিল বলে গন্য হবে। (shiplu and anothers Vs state,, 49 DLR, HCD, 53)
কিন্তু কোন মামলায় যদি চার্জ গঠনের সময় অপরাধীর বয়স কম থাকে কিন্তু বিচারের সময় যদি অপরাধীর বয়স ১৬’র বেশী হয় তবে একত্রে বিচার করা যাবে। (bimal das Vs state,, 46 DLR, HCD, 460)
Children Act এর ধারা ৭ অনুসারে, যদি কোন কিশোরকে কোন প্রাপ্তবয়স্কের সাথে একত্রে অভিযোগ গঠন করা হয় তবুও ঐ কিশোরের বিচার একই আদালতে বা এজলাসে একত্রে করা যাবেনা। অবশ্যই কোন আলাদা ঘরে বা আদালতে বা এজলাসে করতে হবে।
কোন কিশোর যদি কোন অপরাধ করেছে বলে প্রমান হয় তবুও নিম্নোক্ত ধরনের শাস্তি কখনও দেয়া যাবে না-
  • মৃত্যুদন্ড,
  • দীপান্তর,
  • জেল (যদিনা আদালত বলে যে কিশোরটি মারাত্বক ধরনের অপরাধ করেছে)।
একজন কিশোর অপরাধীকে সাজা দেবার সময় আদালত অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয় বিবেচনা করবেন-
  • কিশোরটির বয়স ও চরিত্র,
  • কিশোরটির বসবাসের পরিবেশ,
  • প্রবেশন অফিসার এর রিপোর্ট।
একজন কিশোর এর ভালমন্দ বোঝার ক্ষমতা অনেক কম। সে যে অপরাধ করে এ বিষয়ে তার নলেজ অনেক কম থাকে। এই সব সমস্যা থেকে উতরানোর মতো যথেষ্ট বয়স তার থাকে। তাই কিশোর অপরাধীদের অবশ্যই শোধরানোর সুযোগ করে দিতে হবে। কারন শিশু কিশোররা হচ্ছে দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ও এরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৮ বছর পর নির্দোষ ঘোষণা!

ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ১৮ বছর পর এক তরুণকে নির্দোষ ঘোষণা করা হলো। হুগজিলতু নামের ওই তরুণকে ১৯৯৬ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ায় এক আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। দণ্ড কার্যকরের পর ২০০৫ সালে সেই ঘটনায় আরেক ব্যক্তি দোষ স্বীকার করলে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
সোমবার হুগজিলতুকে নির্দোষ ঘোষণা করেন চীনের একটি আদালত। এক বিবৃতিতে আদালত বলেন, ‘হুগজিলতুকে দোষী সাব্যস্ত করে ইনার মঙ্গোলিয়ার আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়; এতে প্রমাণের অভাব ছিল। হুগজিলতু এঘটনায় দোষী নয়।’ খবর- এএফপি
১৯৯৬ সালে মামলার তদন্ত চলাকালে হুগজিলতুকে ৪৮ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার এ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই নারী নিহত হওয়ার ৬১ দিনের মাথায় হুগজিলতুর দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে হুগজিলতুর পরিবার আগে থেকেই তাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত নভেম্বরে মামলাটির পুনর্বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচার সে ঘটনার সঙ্গে হুগজিলতুর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ না হওয়ায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন আদালত।
চীনে মৃত্যুদণ্ড বা অনেক বছর ধরে কারাভোগ করার পর নির্দোষ ঘোষণা ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কয়েক মাস আগে ২০০৪ সালে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত দুই ব্যক্তিকে নির্দোষ ঘোষণা করেন আদালত।
এছাড়া স্ত্রী হত্যার দায়ে ১৭ বছর ধরে কারাভোগ করা এক ব্যক্তিকে গত বছর নির্দোষ ঘোষণা করেন চীনের আনহুই প্রদেশের একটি আদালত।
হুগজিলতুকে নির্দোষ ঘোষণার ঘটনাটি চীনের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টিকে আবারো বিতর্কের মুখে ফেলে দিলো