শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৯

মামলার ‘কজলিস্ট’ ও ‘রি-কল’ কী?


মামলার  'কজলিষ্ট' ও 'রি-কল' কী ?


॥বেলাল আজাদ॥
মামলার কজলিষ্ট:
আমরা মামলা-মোকদ্দমার বাদী/বিবাদীরা
আদালতে, আইনজীবীদের টেবিলে প্রায়শঃই
একটি লাল মলাটের খাতা দেখতে পাই, এটিই
ঐ আদালতের মামলার কজলিষ্ট। কজলিষ্টে
সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারাধীন
মামলাগুলোর নং, আগামী ধার্য্য তারিখ,
মামলার পর্যায়/আদেশ/রায় ও বাদী-বিবাদীর
নাম লেখা থাকে। বাংলাদেশের মহামান্য
সূপ্রীমকোর্ট-হাইকোর্ট থেকে শুরু করে
ট্রাইব্যূনালে, জজ/ম্যাজিষ্ট্রেট সহ
প্রত্যেকটি আদালতে একই আদলের এই
‘মামলার কজলিষ্ট’ আছে। এই মামলার
কজলিষ্ট সর্ব সাধারণের জন্য উন্মূক্ত। এই
কজলিষ্ট মহামান্য হাইকোর্টের অধীনে
সরকারী মূদ্রণালয় থেকে মূদ্রিত এবং
কজলিষ্টের প্রত্যেকটি পাতায় (মামলার
দৈনিক কার্যতালিকায়) সংশ্লিষ্ট
আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট/বিচারক/
রেজিষ্ট্রার/বিচারপতি (আদালতে আসীন ও
প্রস্থানের সময় সহ) কর্তৃক স্বাক্ষর করা। যে
কোন মামলার যে কোন বাদী-বিবাদী
আদালতে থাকা মামলার কজলিষ্ট দেখে
নিজের মামলার নং, বিচারের পর্যায় ও
পরবর্তী ধার্য্য তারিখ জেনে নিতে পারেন॥
মামলার রি-কল
ফৌজদারী মামলায় আসামী জামিনে মুক্তি
অথবা মামলার দায় হইতে অব্যাহতি বা
খালাসপ্রাপ্ত হইলে, সংশ্লিষ্ট আদালতের
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যথা- বিজ্ঞ বিচারক/
ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা বেঞ্চ সহকারী, অফিস
সহকারী, স্টেনোগ্রাফার, সেরেস্তাদার,
নাজির, সিএসআই অথবা জিআরও কর্তৃক
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কিংবা
দায়িত্বশীল অফিসার বরাবর প্রেরিত পত্র।
মামলার আসামীর জন্য থানায় গ্রেফতারী
পরোয়ানা বা সাজা পরোয়ানা অথবা অন্য
কোন প্রসেসে জারী করা থাকিলে এবং ঐ
আসামী কথিক মামলায় জামিন/অব্যাহতি/
খালাস প্রাপ্ত হলে, যে একটি পত্র বা
পরোয়ানা থানার ওসি বরাবরে প্রেরণ করা
হয়, তাহা “রি-কল” নামেই পরিচিত।
“মামলার রি-কল” বা পরোয়ানা ফেরৎ পত্রে
আদালতের নাম, মামলা নং, ধারা, জামিন বা
অব্যাহতি/খালাসপ্রাপ্ত আসামীর নাম-
ঠিকানা, জামিনের তারিখ, আদালতের সীল
মোহর ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সীল-
স্বাক্ষর দেয়া থাকে॥

শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

কারাগারের “জান খালাসী” মৃত্যূই যাদের কারামুক্তি!

বেলাল আজাদ::
মায়ানমারের (বার্মা) সীমান্তবর্তী কক্সবাজার,বান্দরবান ও চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দী মায়ানমারের (বার্মা) বার্মিজ নাগরিকরা স্থানীয় বন্দীদের কাছে “জানখালাসী” বলেই পরিচিত! মৃত্যূর আগ্ পর্যন্ত তাদের কারামুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায়, কারাগারে তারা আমৃত্যূ কারাবন্দী বা ‘জানখালাসী’ বলেই বিবেচ্য। কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে এ ধরণের অনির্দিষ্টকালীন বা আমৃত্যূ কারাবাসীর (জানখালাসী) সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক।
মায়ানমার(বার্মা) সরকারের দমনমূলক নীতি ও সংখ্যাগুরু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিপীড়নের মুখে মায়ানমারের আরকান রাজ্য থেকে অত্যাচারিত-বিতাড়িত হয়ে প্রাণ বাচাঁতে এসব সংখ্যালঘু মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা প্রায়ই বাংলাদেশে আশ্রয় পেতে চেষ্টা করে বাংলাদেশে অনূপ্রবেশ করে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে এবং বৈদেশিক নাগরিক আইন ও পাসপোর্ট আইনস হ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারান্তরীণ হয় তারা। এদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত দন্ড ভোগের (সাজাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া) পরেও বছরের পর বছর, যুগ যুগ ধরে কারাগারেই বন্দি মানবেতর দিনাতিপাত করছে। একমাত্র মৃত্যূ ছাড়া তাদেঁর কারা মুক্তির আশা একেবারেই ক্ষীণ। এদের মধ্যে কয়েকজন নারী ও শিশুও রয়েছে। অনেকেই কম বয়সে কারাগারে বন্দি হয়ে বর্তমানে প্রাপ্ত বয়সে পদার্পণ করেছেন।তাদের কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা শরণার্থী হিসেবে জাতিসংঘ ঘোষিত মর্যাদা না থাকার কারণে মুক্তি বা কোথাও পাঠানোর ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
বন্দিদের মধ্যে অন্যতম মায়ানমারের কেন্ডন জেলার বুচিডং থানার জুপরা গামের মৃত এয়াকুব আলী পূত্র সুলতান আহমদ (৫৫) গত ১৯৯৭ সালে পার্বত্য বান্দরবানের লামা থানা পুলিশের হাতে গেফতার হলে তার বিরুদ্ধে বৈদেশিক নাগরিক আইন’১৯৪৬ এর ১৪ ধারায় (জি.আর-১১/৯৭) মামলা হয়। পরে সুলতান আহমদ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি দিলে লামা থানা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কর্তৃক ১৯৪৭ সালের বিদেশি আইন এর ১৪ ধারায় ৫০০ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ড পান। ২৬ এপ্রিল ৯৯ ইং তারিখ থেকে সাজা ভোগ করে ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ তারিখে তার মুক্তি পাওয়ার কথা। অথচ ০৯/৯/৯৯ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ বছর বা এক যুগেরও বেশি সময় কারাভোগ করতে হচ্ছে তাকে।
একই ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আরাকান প্রদেশের রাজধানী আকিয়াব অঞ্চলের মংডু থানাধীন মায়াদি গ্রামের আবুল হোসাইনের পুত্র হাফেজ আহমদ (২১) এর সাজার মেয়াদ ১৮/৭/০১ তারিখ শেষ হয়। তিনি পাসপোর্ট আইনের ৩(৩) ধারায় ৩ মাসের কারাদন্ড ভোগ করার পরও আজ পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর যাবত কারাভোগ করে আসছেন।
কারাবন্দি মো: জালাল (৩০), পিতা: উলা মিয়া ৩১/১০/০৫ইং তারিখ মুক্তি পাওয়ার কথা, একইভাবে আবদুর রহিম (৩৮), পিতা: খলিলুর রহমান ২২/০৬/০৬ইং, মোহাম্মদ ইউছুফ আলি (৩৮), পিতা: কালা মিয়া ৩১/০৭/০৭ইং, বশির আহমদ (৩৪), পিতা: মৃত ছৈয়দ করিম এর ৩০/০৬/০৮ইং, নুর আলম (৩০), পিতা: মরহুম আব্দুর রহমান ২৪/০৬/০৭ইং, শাহ মিয়া (১৫), পিতা: মৃত জালাল আহমদ ২৪/০৬/০৭ইং, আবুল হাশিম (২৫), পিতা: মৃত কাশিম ৩০/০৬/০৮ইং, মোহাম্মদ রফিক (২২), পিতা: ছরি হোছাইন ৩০/০৬/০৮ইং, মোহাম্মদ হোছাইন (২৩), পিতা: মৃত হামেদ হাছান ৩০/০৬/০৮ ইং, টিং অং (৪৬) পিতা: ট্যাং চংক ১৮/১২/০৭ইং, লা-লো (৪৬), পিতা: মৃত তাচেং ১৫/০৮/০৮ইং, মং তোয়া অং রাখাইন (২৯), পিতা: মৃত শত্রু রাখাইন ২৯/৭/০৮ইং, আনোয়ার ইসলাম (৩৪) পিতা: কালা পুতু ৩০/০৯/০৯ইং, কিয়ং গাফ রাখাইন (২৬), পিতা: চৌং রাখাইন ০৮/০১/০৮ইং, মোহাম্মদ সেলিম (২০), পিতা: আবুল জাফর ২৮/০৬/১০ইং, আলি আকবর (২০), পিতা: মৃত ইউছুপ আলি ২৬/০৩/০৫ইং, আবু তৈয়ব (২৭), পিতা: মৃত আবু বক্কর ২৮/০৬/১০ইং, সোনা মিয়া (৩৫) পিতা: আব্দুল হোছাইন ২৮/০৬/১০ইং, আবুল কালাম (৩৩), পিতা: আমান উল­্যা ২৮/০৬/১০ইং, নুর ইসলাম (২৮), পিতা: আবুল হাশেম ২৮/০৬/১০ইং, মোহাম্মদ রফিক (২৯), পিতা: মো: ওয়ায়িছ ২৮/০৬/১০ইং, মো: শুভ আলম (২৬), পিতা: বদি আলম ২৮/০৬/১০ইং, রহমত আলি (২৬), পিতা: মো: মনির আলম ২৮/০৬/১০ইং, নুর মোস্তফা (২৫), পিতা: আনু মিয়া, ২৮/০৬/১০ইং, মো: রফিক (২৭), পিতা: ছৈয়দ আলম, ২৮/০৬/১০ইং, আবুল হোছাইন (২৭), পিতা: কালামিয়া, ১৯/১১/০৯ইং, রশিদ উল্লাহ (২৭) ২৭/০১/১০ইং, আমান উল্লা (২৫) ২৭/০১/১০ইং, আরাফাত উল্লাহ (২৫) ২৭/০১/১০ইং, মোহাম্মদ সেলিম (৩২) ২৬/০৫/১১ইং, আজগর হোছাইন (৪৫) ২০/০৪/১১ইং, লেদু মিয়া (৪৮) ২০/০৪/১১ইং এবং নারী বন্দি সায়েদা ওয়াই-এর (২০) গত ০৩/০৮/২০১০ ইং তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (ডবলমুরিং থানার সাধারণ ডায়েরি নম্বর ৪০৩, ০৮/০৬/২০০৯) এই নারীকে ০৮/০৮/২০১০ তারিখে মুক্তির আদেশ দিলেও আজও মুক্তি মেলেনি তার। একইভাবে উপলা খুমি (২৭), ০১/১১/১০ইং ও হাই ট্যোং (৪৫) পিতা: লেই চ্যুং-এর ১০/০২/১০ তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
মানবাধিকার সংস্থা বিএইচআরএফ’ তাদের নিজস্ব কাজের অংশ হিসাবে নারী ও শিশু কারাবন্দিদের মানবাধিকার বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান চালাতে গিয়ে জানতে পারে দণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান সহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বছরের পর বছর যুগ যুগ ধরে বার্মিজ নাগরিক প্রায় ৫ শতাধিক কারাবন্দি।
“কারাগারে বিনা বিচারে বছরের পর বছর যুগ যুগ ধরে আটক রাখা বার্মিজ নাগরিক বন্দীদের মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে অথবা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে ” গত ২০১২ ইং সনে মানবাধিকর সংগঠন বিএইচআরএফ’র সংগঠক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন মহামান্য হাইকোর্টে একটি আবেদন (রিট) করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, এসব বন্দিকে একদিকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার নাগরিক বলে স্বীকার করে না অন্যদিকে এদের শরণার্থীর মর্যাদাও দেয়া হয় না।
এরা রাষ্ট্রহীন নাগরিকে পরিণত । তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের ওপর এরা বাড়তি চাপ হওয়া এবং মানবিক কারণে বিষয়টির নিষ্পত্তি দরকার। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের যুগ্ম বেঞ্চ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সর্বমোট ১১ জনকে জবাব দিতে রুল জারি করেন।কিন্তু রুলটি আপীল বিভাগে গিয়েই শেষ, কার্যতঃ কোন ফল মেলেনি। মুক্তি মিলেনি অনির্দিষ্টকাল কারাগারে বন্দি মায়ানমারের (বার্মা) নিপীড়িত-বিতাড়িত “জান খালাসী”দের॥

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

কাবিননামা ছাড়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলে বিয়ে বৈধ

আপিল বিভাগের রায় কাবিননামা ছাড়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলে বৈধ বিয়ের অস্থিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে।
মমতাজ বেগম বনাম আনোয়ার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের রায়ে বিচারপতি এস কে সিনহা মন্তব্য করেছেন, মুসলিম নর ও নারী যদি স্বামী ও স্ত্রীর পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেন এবং তাঁদের মধ্যে যদি রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা না-ও হয়ে থাকে, তাহলেও এখানে বৈধ বিয়ের অস্থিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে।
তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী বৈধ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলেও গন্য হতে পারে। মামলার রায়টি আসে ৩১ জুলাই ২০১১। বিচারপতি এস কে সিনহার রায়ে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা সম্মতি দিয়েছেন।
মামলাটির ঘটনায় জানা যায়, মমতাজ বেগম ও আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। একপর্যায়ে লোভী আনোয়ার হোসেন মমতাজ বেগমের কাছ থেকে যৌতুক দাবি করতে থাকেন এবং যৌতুক না দেওয়ার কারণে মমতাজ বেগমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। মমতাজ বেগম তাঁর ভরণপোষণ এবং দেনমোহর চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা ঠুকে দেন। এই মামলায় আনোয়ার হোসেন জবাব দাখিল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মামলার জবাবে আনোয়ার হোসেন মমতাজ বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়েকে অস্বীকার করেন।
মমতাজ বেগম দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁরা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই একত্রে বসবাস করছেন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। মামলার সাক্ষী-প্রমাণ শেষে পারিবারিক আদালত আদেশ দেন, তাঁদের মধ্যে বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। আনোয়ার হোসেন ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করেন পারিবারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে। হাইকোর্ট বিভাগের একটি একক বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের মামলাটি খারিজ করে দেন ১৯৯৯ সালে। হাইকোর্ট বিভাগ তাঁর রায়ে বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকার কাবিননামা সম্পন্ন হয়নি যা বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং মমতাজ বেগম তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা মোহামেডান আইনের ২৫২ প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করে একত্রে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেননি এবং এই একত্রে থাকা কোনো বিয়ের বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়ে না।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে মমতাজ বেগম লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) দায়ের করেন এবং আপিল মঞ্জুর হয় তিনটি বিষয়কে বিবেচনা করে:
১. মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি না হলে এটি কি বাতিল, অবৈধ বা অস্তিত্বহীন কি না।
২. তিন বছর ধরে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা এবং বসবাসের শর্ত বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে কি না।
৩. হাইকোর্ট রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করে নিু আদালতের আদেশ এবং পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বৈধ বিয়ের অস্তিত্বের বিষয়ে বিবেচনা করেছেন কি না।
আপিল বিভাগে মমতাজ বেগমের পক্ষে আপিলটি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রাবেয়া ভূঁইয়া ২০০৩ সালে (সিভিল আপিল নম্বর-১৩৯/২০০৩)। তিনি আপিলে দাবি করেন, কাবিননামার অনুপস্থিতিতে বিয়ের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যাবে নাÑহাইকোর্ট বিভাগের এ বিবেচনা যুক্তিসংগত নয় এবং তা আইনের সঠিক মর্ম নয়।
আপিল বিভাগ রায়ে বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তিন বছর বসবাসের বিষয়টিকে প্রাধান্য না দিয়ে শুধু রেজিস্টার্ড কাবিননামা নেই এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগ যদিও বিশ্বাস করেছেন তাঁরা লিভ টুগেদার করেছেন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কিন্তু এমন বসবাসকে অনৈতিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হাইকোর্ট বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে লিভ টুগেদারের মতো অনৈতিক বিদেশি সংস্কৃতি আমাদের সমাজে ঢুকে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে আমাদের সমাজকে কলুষিত করছে, সামাজিক মূল্যবোধকে নষ্ট করছে এবং বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছে।’
বিচারপতি সিনহা মন্তব্য করেন, হাইকোর্ট বিভাগ পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য এবং মামলার ঘটনায় আইনের আদর্শের দিকটি বিবেচনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি তাঁর রায়ে বলেন, ‘মুসলিম আইন অনুযায়ী আমাদের বিয়ের ধারণা সম্পর্কে বিবেচনা করতে হবে। মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে হচ্ছে একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং এতে কোনো অনুষ্ঠান বা বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতার দরকার নাই।’
আরেকটি প্যারায় উল্লেখ করেছেন, ‘মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং এটি কোনো প্রথা ন। এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই। নর-নারীর মধ্যে বৈধ যৌন সম্পর্ক এবং সন্তান জন্মদানের জন্য একটি স্থায়ী চুক্তি হচ্ছে বিয়ে, যারা বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মুসলিম বিয়ে সম্পন্ন হতে হলে বিয়ের চুক্তি লিখিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরো বিয়ের প্রক্রিয়াটির বৈধতা এবং কার্যকরতা নির্ভর করে বিয়ের প্রস্তাব এবং প্রস্তাব গ্রহণ এবং উপযুক্ত সাক্ষীদের সামনে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে।’
আপিল বিভাগের এ রায়ে তায়েবজি, ডি এফ মোল্লা, সৈয়দ আমীর আলীর বিভিন্ন বক্তব্য ও বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছেন। আপিল বিভাগের রায়ে সৈয়দ আমীর আলীর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়, ‘মোহামেডান আইনে কোনো চুক্তির কার্যকরতার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো নেই যে বিষয়টি লিখিত হতে হবে কি না নাকি সাক্ষীদের উপস্থিতি এর বৈধতার জন্য প্রয়োজন কি না। যদিও সুন্নিদের মধ্যে বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষীদের উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে। যদি সাক্ষীদের উপস্থিতির অভাবে কোনো বৈধ বিয়ে প্রমাণ করা দুঃসাধ্য হয়ে যায় তাহলে বিয়ে সংঘটনের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে এটি বৈধ বিয়ে বলে গণ্য হবে।’
রায়ে উল্লেখ করা হয়, সাক্ষ্য আইনের ৫০ ধারায় বলা হয়েছে, যখন এক ব্যক্তির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির সম্পর্কের ব্যাপারে আদালতকে অভিমত নিতে হয় তখন পরিবারের সদস্য হিসেবে অথবা অন্যভাবে এই ব্যাপারে যা জ্ঞানলাভের সুযোগ আছে, উক্ত সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কে তার আচরণের মাধ্যমে যে অভিমত ব্যক্ত হয় তা প্রাসঙ্গিক বিষয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রশ্ন হচ্ছে, ক ও খ পরস্পর বিবাহিত কি না। তাদের বন্ধুবান্ধব সাধারণত তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অভ্যর্থনা করে এবং তাদের সঙ্গে তদ্রƒপ ব্যবহার করেÑএটা প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
রায়ে বলা হয়, যখন কোনো নারী অনেক বছর ধরে কোনো নরের এবং সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করে এবং সন্তানের জš§দাতা হিসেবে লোকটি স্বীকৃতি দেয় এবং আÍীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা তাদের সঙ্গে তেমনভাবে আচরণ করে, তাহলে বিয়ের বৈধতার বিষয়ে অনুমান করা যায়। এ বিষয়ে নর-নারীর মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তাদের আÍীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে পারেন আদালত।
এটা স্বীকৃত যে বিয়েটা আইনে মনোনীত একজন কাজির মাধ্যমে পড়ানো হয়। আরও দুইজন মনোনীত ব্যক্তি থাকেন যাঁরা পক্ষদ্বয় দ্বারা মনোনীত হন এবং শর্তগুলো চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বলবৎ করা হয়, যাকে বলা হয় কাবিননামা।
সাক্ষী ছাড়া একটি বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বৈধতা নেই। কিন্তু যখন এমন কোনো স্থানে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয় যেখানে এর কার্যকরতা বলবৎ করা যায় না, শুধু এ কারণে বিয়েটি অবৈধ হয়ে যাবে না। যেখানে সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব কিন্তু সাক্ষী রাখা হয়নি সে ক্ষেত্রে বিয়েটি অবৈধ হবে। একবার বিয়ে হলে এবং উভয় যদি একত্রে বসবাস করতে থাকে তাহলে চুক্তিগত ত্র“টিগুলো অকার্যকর হয়ে যায় এবং বিয়েটি আইনগত বৈধতা পায়।
বিচারপতি সিনহা মন্তব্য করেন, অনেক জুরিস্ট ও বিজ্ঞ লোকের অভিন্ন মতামত আছে যে কোনো বিয়ের বৈধতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ না থাকলে সে ক্ষেত্রে আচরণ এবং প্রচারের সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বিয়েটি সম্পন্ন হওয়ার ধরনের প্রশ্ন বিয়েটির বৈধতার উপাদান হিসেবে গণ্য হতে পারে।
স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক অবসানের পর বিয়েটি সম্পন্ন হওয়ার অনুমান সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। সেই স্থানে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি থাকবে না এবং এ জায়গাটি পাবলিক রাস্তা, গোসলখানার মতো হবে না। যে স্থানে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো দীর্ঘদিন বসবাস করেছে যা কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই এখানে বিয়ের বৈধতা নিয়ে অনুমান করা যায়। আইনে বিয়ের চুক্তির জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের কথা বলা নেই। একটি বিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই হতে পারে এবং এমনকি প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই পরোক্ষ প্রমাণই যথেষ্ট হতে পারে।
আপিল বিভাগের রায় হচ্ছে, হাইকোর্ট বিভাগ যদি মোহামেডান আইনের ২৫৪ এবং ২৬৮ প্যারা বিশ্লেষণ করতেন তাহলে বিয়েটির বৈধতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত অন্য কিছু হতে পারত। তাই এ মামলার রায় প্রদানে আইনের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। নথিপত্রের সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ করে যে মমতাজ বেগম তথা আপিলকারী এবং আনোয়ার হোসেন তথা প্রতিবাদীর মধ্যে বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।

পালিয়ে বিয়ে করছেন ?

ভালোবাসার মানুষটিকে যেভাবেই হোক নিজের করে নিতে চাইছেন। প্রয়োজনে পালিয়ে যাবেন তাকে নিয়ে, সমাজ সংসার-পরিবার ছেড়ে। কিন্তু তা কি করে সম্ভব?সমাজ-পরিবার তো আপনাকে ছাড়বে না! আসবে বাঁধা-বিপত্তি। যে ধরনের বাঁধা মোকাবেলা করতে হবে আপনাকে-সাধারণত প্রেমের বিয়ের ক্ষত্রে অপহরণের মামলা হয়: মেয়েটিকে অপহরণের মামলা করা হতে পারে আপনার ও আপনার পরিবারের বিরুদ্ধে, আটকে রাখার অভিযোগ আসতে পারে। আপনার বিরুদ্ধে হতে পারে ধষর্ণের মামলাও। স্বেচ্ছায় বিয়ে করে যদি প্রেমিক স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে মেয়ের বয়স যদি ১৬ বছরের কম হয়, সে ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যেতে পারে। তবে ভিকটিমকে সাক্ষ্য দিতে হবে যে তার সাথে প্রতারণা করে এই সম্পর্ক স্থাপন  করা হয়েছে।বিবাহবন্ধন-বহির্ভূত ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো মেয়ের যদি যৌনকর্মে সম্মতি থাকে, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর জন্য পুরুষসঙ্গীর কোনো শাস্তিও হবে না। কিন্তু অপহরণের ব্যাপারে কোনো বয়সের কথা উল্লেখ নেই। দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারাতে উল্লেখ আছে, ১৬ বা তার অধিক বয়সের কোনো নারী যদি কারও সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে যায়, তবে তা অপহরণ হিসেবে গণ্য হবে না।এসব সমস্যা মেটার পর দেখা যাবে যাকে ভালোবেসে এত কিছু করলেন সেই আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছে, আপনাকে প্রতারক ও অপহরণকারী বলে নিজ বাবা-মায়ের মতে আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াচ্ছে!তবে আপনার ভালোবাসার মানুষটি যদি হয় প্রাপ্তবয়স্কা এবং আইন অনুযায়ী আপনাদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয় এবং একে অন্যের প্রতি যদি থাকুন সৎ ও বিশ্বস্থ তবে এ ধরনেরসমস্যা গুলো থেকে পার পেয়ে যাবেন।এটি আপনাকে পালিয়ে বিয়ে করতে অনুপ্রেরণা নয় বরং না করতে ও ভালোবাসাটাকে সকলের সম্মতি ও সাহসের সাথে নিজের করে নিতে বলছি।আইন সবার জন্য সমান, তাই জানুন, সচেতন হওন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার উপায়:

নিয়মকানুন মেনে গাড়ি চালানোর জন্য দরকার প্রশিক্ষণ ও কিছু দরকারি কাগজপত্র। ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে থাকলে চালক রাস্তার ট্রাফিক সংকেতগুলো সম্পর্কে জানেন ও মানেন বলে ধরে নেওয়া হয়। কারণ লাইসেন্স দেওয়ারআগে বিআরটিএ তিনস্তরের পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করে।একবার লাইসেন্স করলে তা দিয়ে সারাজীবন গাড়ি চালানো যায় না। নির্দিষ্ট সময় পর পর নবায়ন করতে হয়। চালকের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী মামলা করতে পারে।ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রথমেবিআরটিএ’র ওয়েবসাইটথেকে লার্নার বা শিক্ষানবিস ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে।বিআরটিএ অফিসেও বিনামূল্যে লার্নার ফর্ম দেওয়া হয়। এটি পূরণ করে লার্নার অর্থাৎ শিক্ষানবিস লাইসেন্সের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।খরচাপাতি:মোটরসাইকেল ও গাড়ির লাইসেন্স ফিএকই। তবে মোটরসাইকেলের কোনো পেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হয় না।শিক্ষানবিস ফি:*.একটি যানের জন্য ৩৪৫ টাকা(১৫% ভ্যাটসহ)।*.দু’টি (গাড়ি ও মোটরসাইকেল) যানের জন্য ৫১৮ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।*.লার্নার নবায়ন ফি ৮৭ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।*.শিক্ষানবিস থেকে পূর্ণমেয়াদের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা দিতে হয়। এর জন্যও রয়েছে আলাদা ফি।*.অপেশাদার লাইসেন্স ফি : ২,৩০০ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।*.পেশাদার লাইসেন্স ফি : ১,৪৩৮ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া:প্রথমে লার্নার বা, শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে।আবেদনকারীর স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা বিআরটিএ’র যে সার্কেলের আওতাভূক্ত তাকে সেই সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। সার্কেল অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে একটি শিক্ষানবিস বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে, যা দিয়ে আবেদনকারী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেটের তত্ত্ববধানে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ঢাকা জেলা সার্কেলের পরীক্ষা দিতে হলে যেতে হবে  কেরানীগঞ্জেরইকুরিয়ায়।নির্ধারিত কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হয়। ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সংকেত সম্পর্কিত বিষয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর লিখতে হয়। ফিল্ড টেস্টে সামনে-পেছনে, ডানে-বাঁয়ে ও পরীক্ষকের নির্দেশনা মতো গাড়ি চালিয়ে দেখাতে হয়।এ তিনটি ধাপে পাশ করলে লাইসেন্স দেওয়া হয়।শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে:১. নির্ধারিত ফরমে আবেদন।২. রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।৩. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি।৪. নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ।৫. সদ্য তোলা ৩ কপি স্ট্যাম্প ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।তিনটি পরীক্ষায় পাশ করার পর নির্ধারিত ফর্মে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি দিয়ে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।নির্ধারিত দিনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ) দেওয়ার জন্য উপস্থিত হতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষে বিআরটিএ স্মার্ট কার্ড ইস্যু করে।স্মার্ট কার্ড পাওয়ার তারিখ এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়াহয়।পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করতে হলে আরও কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়।পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স:*.পেশাদার হালকা (মোটরযানের ওজন ২৫০০ কেজি’র নিচে) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২০ বছর হতে হবে।*.পেশাদার মধ্যম (মোটরযানের ওজন ২৫০০ থেকে ৬৫০০ কেজি) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর হতে হবে।*.পেশাদার ভারী (মোটরযানের ওজন ৬৫০০ কেজির বেশি) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৬ বছর হতে হবে।এছাড়া পেশাদার ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য প্রার্থীকে প্রথমে হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। এরন্যূনতম তিন বছর পর তিনি পেশাদার মিডিয়াম ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।আর মিডিয়াম ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার কমপক্ষে তিন বছর পর ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।লাইসেন্সের মেয়াদ:অপেশাদার হলে ১০ বছর, পেশাদার হলে ৫ বছর।ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন:লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হয়। বিআরটিএ-তে নির্ধারিত ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:১. নির্ধারিত ফরমে আবেদন।২. রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সাটিফিকেট।৩. ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি।৪. নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ।৫. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন।৬. সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট ও ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।প্রয়োজনে আবেদনের মাধ্যমে লাইসেন্স এক এলাকার লাইসেন্স অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা যায়।অপেশাদার হলে:প্রথমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএ’র নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্র ঠিকভাবে পাওয়া গেলে একইদিনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ) গ্রহণ করা হয়। স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস-এরমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।পেশাদার হলে:পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর গ্রাহকেরবায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে উপস্থিত হতে হয়।

আইনজীবী ! কী ?:

: L-Legal Expert : আইনবিষয়ে অভিজ্ঞ
;:: A-Analytical : ব্যাখাকারক,
:: W-Wisdom : জ্ঞানী
;:: Y-Youthful : তারুণ্যময় ;
:: E-Evergreen : চির যৌবনের, শিল্পি ;
:: R-Royalist : রাজকীয় ।উপরের শব্দ গুলোর আরেকটু বিশ্লেষণ করলে
::: আইন বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জ্ঞানেরঅধিকারী।
:: শুধু আইন জানবে না, আইনটি কোথায় ?কিভাবে আছে ? সেটাও সঠিক ভাবে জানবে।
:: সব বিষয়ের ও সর্বস্তরের একটা পরিস্কারধারণা রাখবে। আপটুডেট, অর্থাৎ আইনের নতুননতুন বিষয়ে খোঁজ খবর রাখবে।
:: আইনের সময়মতো, সঠিকমতো এবং সঠিকজায়গায় প্রয়োগের দক্ষতা থাকবে।:: যে জায়গায় যেভাবে ব্যাখা করা দরকারসেভাবে তা সুন্দর ভাবে করবে এবং উপস্থিতবুদ্ধির অধিকারী হবে।:
: হতে হবে তারুণ্যময় তথা যৌবনদীপ্ত ওমাধুর্য্যমন্ডিতবলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের অধিকারী।
:: আদালত মঞ্চ মনে করবে। সবোর্চ্চচেস্টা করবে দক্ষ অভিনয় শিল্পীর সুনিপুনউপস্থাপনার মত নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে।:: ব্যক্তিত্ববান, তথা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর একপ্রানবন্ত মানুষ।:
: এমনভাবে নিজেকে বিচারককেরসামনে তুলে ধরবেন যেন নির্দ্বিধায় মোহিতহয়ে তার উপর আস্তা রাখেন।
:: জীবন হবে রাজকীয় তথা রাজার মত, ভদ্র,সাহসী ও মার্জিতবোধ সম্পন্ন।সর্বক্ষেত্রে নিজেকে প্রকাশ করবে রাজকীয়ভাবে বিশেষ করে আদালত চত্বরে।সুতরাং বুঝতেই পারছেন আইনজীবী কী !?

কমিউনিটি পুলিশিং

কমিউনিটি পুলিশিং কি?
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট পিলের গণমুখী পুলিশিং এর মূলনীতি হতেই মূলতঃ কমিউনিটি পুলিশিং এর ধারণা আসে। কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন । আমাদের দেশে পুলিশী  কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কমিউনিটির সদস্যগণ, সমাজের বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় কমিউনিটি পুলিশিং মূলত একটি প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় অপরাধের কারণগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় । অপরাধের কারণগুলো দূর করা যেহেতু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয় তাই এই কাজে অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড অপরাধ প্রতিরোধ তথা অপরাধ যাতে ঘটতে না পারে সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ জনগণকে নিজেরাই যাতে নিজ নিজ এলাকার অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য জনগণকে আইনী পরামর্শ দেওয়া, অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা,  অপরাধকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করে।
বৈশিষ্ট্য
১। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা পুলিশ ও জনগনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
২। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পুলিশী ব্যবস্থা।
৩। পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ে উভয়ের নিকট গ্রহণীয় পুলিশী কার্যক্রমের একটি দর্শন হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং।
৪। এ ব্যবস্থায় জনগণ এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিক্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়।
৫। জনগণের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
৬। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়।
৭। জনগণ পুলিশী কার্যক্রম ও পুলিশের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে জানতে পারে।
৮। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং জনগনের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ হ্রাস পায় এবং জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়।
৯। পুলিশ জনগণকে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে তাদের অনেক সমস্যা তাদের দ্বারাই সমাধানের পথ বের করার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
১০। কমিউনিটির সম্পদ কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সুফল
১। পুলিশ ও জনগণের মধ্যের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন ও এলাকার সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২। জনগণের সহায়তায় পুলিশ নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা সমাধানের কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারে।
৩। জনগণকে পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের আলোকে পুলিশী সেবা নিশ্চিত করা যায়।
৪। পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং জনগণ পুলিশী কাজের প্রক্রিয়া এবং পুলিশের সীমাবদ্ধতা জানতে পারে।
৫। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়।
৬। পুলিশ ও জনগনের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পায়। জনগণ পুলিশকে আপন ভাবতে শিখে।
৭। জনগণের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ ভীতি হ্রাস পায় এবং পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনগণ উদ্ধুদ্ধ হয় ও সাহস পায়। মানুষের মধ্যে পুলিশকে এড়িয়ে চলার প্রবণতাও হ্রাস পায়।
৮। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। এ ম্লোগান বাস্তবে রুপ নেয়।
৯। এলাকার অপারাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে একটি গণফোরম তৈরী হওয়ায় অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অপরাধ সংঘটনের সাহস পায় না। সমাজে অপরাধ হ্রাস পায়।
১০। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়।
কমিউনিটি পুলিশিং এর সাংগঠনিক কাঠামো
কমিউনিটি পুলিশিং এর অঞ্চল ভিত্তিক সাংগঠনিক কমিটির দুটো কাঠামো থাকে: (১) উপদেষ্টা পরিষদ এবং (২) নির্বাহী কমিটি বা কার্যকরী পরিষদ
উপদেষ্টা পরিষদ
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন হয়। তবে যদি কার্যকরী কমিটি মনে করে এলাকার বিশেষ কোন ব্যক্তি কমিউনিটি পুলিশিং সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেক্ষেত্রে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করার সুযোগ আছে।
নির্বাহী কমিটি/কার্যকরী পরিষদ
নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ এর মধ্যে হয়ে থাকে। তবে এলাকার উদ্যোগী, আগ্রহী এবং খ্যাতি সম্পন্ন কোন বিশেষ ব্যক্তিকে অন্তর্ভূক্ত করতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ২৫ জন করা যায়।
আইনগত ভিত্তি
কোন অধ্যাদেশ বা আইনের মাধ্যমে এদেশে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়নি। তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২, ৪৩, ৪৪, ও ৪৫ ধারা অনুসারে কিছু ক্ষেত্রে জনসাধারণ পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করতে বাধ্য। জনপ্রতিনিধি যেমন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ পুলিশি কাজে সহায়তা চাইতে পারেন। পুলিশ রেগুলেশনের ৩২ প্রবিধিতে এর উল্লেখ আছে। ফৌজদারী কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশনের এই ধারা অনুসারে পুলিশী সহায়তা ও নেয়া যায়। কমিউনিটি পুলিশিং হলো পুলিশকে সহায়তা করার জনগণের একটি সংগঠিত শক্তি। কাজেই প্রচলিত আইনেই কমিউনিটি পুলিশিং – এর সমর্থন আছে।
তহবিল
সদস্যদের চাঁদা এবং  ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদানের মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালানো হয়। বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক আয়ের উৎস সৃষ্টি করেও অর্থ সংগ্রহ করা যায়। বিধান অনুসারে প্রতি অর্থ বছর শেষে কার্যনির্বাহী কমিটি ৩ সদস্য বিশিষ্ট অডিট টিম গঠন করে আডিটের ব্যবস্থা করে।